পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ

বানিয়াচংয়ের জলাবন লক্ষ্মীবাওর : পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ

হবিগঞ্জ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭(বাসস) : চারিদিকে শুধু জল আর জল। এরই মাঝে হিজল আর করচের বাগান। সেখানে পশু-পাখির বিচরণ। এমন একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জায়গা হল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার লক্ষীবাওর জলাবন। যা সিলেটের রাতারগুলের চেয়েও আয়াতনে বড়,প্রাচীন এবং বৈচিত্রে ভরপুর। পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ এ জলাবন।
বর্ষায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর লক্ষ্মীবাওর জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) ঢেউহীন-স্বচ্ছ জলের সঙ্গে মিতালি গড়ে তোলে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষলতার সবুজ গালিচা। হেমন্তে মনে হয় ছোট ছোট পাহাড়ের মেলবন্ধন। শীতেও দেশী-বিদেশী পাখির কলকাকলিতে মূখরিত হয় নির্জন এ জলাবন। দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর ভাসছে। হিজল, বরুণ, কাকুরা, খাগড়া,ইত্যাদি অসংখ্য গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এ জলাবন সকল ঋতুতেই বৈচিত্রে ভরা। তার ওপর রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য জলাশয়। এসব জলাশয়ে মৎস্যের অভয়াশ্রম। প্রকৃতি প্রেমিক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষকে কাছে টেনে নেয়ার সবটুকু আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রচার-পরিচিতি ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে কাজে আসছে না পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এ জলাবন।
পরিবেশবিদদের মতে, পৃথিবীতে ২২টি জলাবন রয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের মতোই বানিয়াচঙ্গের লক্ষ্মীবাওর জলাবন। তবে লক্ষ্মীবাওর জলাবনের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। এ জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।
লক্ষ্মীবাওর জলাবনের দক্ষিণ দিকে লোহাচুড়া, উত্তরে খড়তি আর পশ্চিমে নলাই নদী। তার পূর্ব পাশে আবার রয়েছে গঙ্গাজলের হাওর। জলাবনের আয়তন সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান। কয়েকশ’ বছর আগে প্রকৃতিগতভাবেই এর সৃষ্টি বলে স্থানীয় লোকজন জানান। স্থানীয়দের কাছে লক্ষ্মীবাওর কিংবা খড়তির জঙ্গল নামে পরিচিত। হবিগঞ্জ শহর থেকে ১২ মাইল দুরে বানিয়াচঙ্গ আদর্শবাজার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের পথ লক্ষ্মীবাওর জলাবনের। জলের মধ্যে বনের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে মোটরসাইকেল, ট্রলি কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। হেমন্তে একটু ভোগান্তি থাকে। বর্ষায় স্বচ্ছ জলেই বনটি বেশী উপভোগ্য।
বনের বার্ষিক আয় সৈদরটুলা সাত মহলর ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও অতি দরিদ্রদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় সেখানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাখি শিকার করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বনের পানি এত স্বচ্ছ যে সেই পানিতে বনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। শীতে সেখানের জল কচুরীপানার চাদরে আবৃত থাকে। সেই সময় যখন কচুরীপানার ফুল ফুটে তখন সেখানে মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের চেয়ে লক্ষ্মীবাওর সোয়াম্প ফরেস্টের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। বয়সের দিক থেকেও এটি প্রাচীন।এটা দেশবাসীর কাছে পরিচিতি করে তুলতে হবে। জীববৈচিত্র রক্ষার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীবাওর জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।
হবিগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সফিউল আলম জানান, হাওর, পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ জেলা পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান। জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বানিয়াচংয়ের লক্ষিবাওর যাতে আরও পর্যটক বান্ধব করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।
চারিদিকে শুধু জল আর জল। এরই মাঝে হিজল আর করচের বাগান। সেখানে পশু-পাখির বিচরণ। এমন একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জায়গা হল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার লক্ষীবাওর জলাবন। যা সিলেটের রাতারগুলের চেয়েও আয়াতনে বড়,প্রাচীন এবং বৈচিত্রে ভরপুর। পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ এ জলাবন।
বর্ষায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর লক্ষ্মীবাওর জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) ঢেউহীন-স্বচ্ছ জলের সঙ্গে মিতালি গড়ে তোলে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষলতার সবুজ গালিচা। হেমন্তে মনে হয় ছোট ছোট পাহাড়ের মেলবন্ধন। শীতেও দেশী-বিদেশী পাখির কলকাকলিতে মূখরিত হয় নির্জন এ জলাবন। দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর ভাসছে। হিজল, বরুণ, কাকুরা, খাগড়া,ইত্যাদি অসংখ্য গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এ জলাবন সকল ঋতুতেই বৈচিত্রে ভরা। তার ওপর রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য জলাশয়। এসব জলাশয়ে মৎস্যের অভয়াশ্রম। প্রকৃতি প্রেমিক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষকে কাছে টেনে নেয়ার সবটুকু আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রচার-পরিচিতি ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে কাজে আসছে না পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এ জলাবন।
পরিবেশবিদদের মতে, পৃথিবীতে ২২টি জলাবন রয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের মতোই বানিয়াচঙ্গের লক্ষ্মীবাওর জলাবন। তবে লক্ষ্মীবাওর জলাবনের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। এ জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।
লক্ষ্মীবাওর জলাবনের দক্ষিণ দিকে লোহাচুড়া, উত্তরে খড়তি আর পশ্চিমে নলাই নদী। তার পূর্ব পাশে আবার রয়েছে গঙ্গাজলের হাওর। জলাবনের আয়তন সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান। কয়েকশ’ বছর আগে প্রকৃতিগতভাবেই এর সৃষ্টি বলে স্থানীয় লোকজন জানান। স্থানীয়দের কাছে লক্ষ্মীবাওর কিংবা খড়তির জঙ্গল নামে পরিচিত। হবিগঞ্জ শহর থেকে ১২ মাইল দুরে বানিয়াচঙ্গ আদর্শবাজার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের পথ লক্ষ্মীবাওর জলাবনের। জলের মধ্যে বনের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে মোটরসাইকেল, ট্রলি কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। হেমন্তে একটু ভোগান্তি থাকে। বর্ষায় স্বচ্ছ জলেই বনটি বেশী উপভোগ্য।
বানিয়াচংয়ের সংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ বিশ্বাস জানন, বনের বার্ষিক আয় সৈদরটুলা সাত মহল¬¬¬¬ার ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও অতি দরিদ্রদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় সেখানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাখি শিকার করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বনের পানি এত স্বচ্ছ যে সেই পানিতে বনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। শীতে সেখানের জল কচুরীপানার চাদরে আবৃত থাকে। সেই সময় যখন কচুরীপানার ফুল ফুটে তখন সেখানে মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের চেয়ে লক্ষ্মীবাওর সোয়াম্প ফরেস্টের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। বয়সের দিক থেকেও এটি প্রাচীন।এটা দেশবাসীর কাছে পরিচিতি করে তুলতে হবে। জীববৈচিত্র রক্ষার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীবাওর জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।
হবিগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সফিউল আলম জানান, হাওর, পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ জেলা পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান। জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বানিয়াচংয়ের লক্ষিবাওর যাতে আরও পর্যটক বান্ধব করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।

558 total views, 2 views today

Leave a Reply

সর্বশেষ সংবাদ