ব্যবসা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে ৭ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭-১৮ অনুযায়ী, ব্যবসার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ সূচকে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল ডব্লিউইএফের ‘দ্য গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭-১৮’ প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে তারা র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে ‘দ্য বাংলাদেশ বিজনেস এনভায়রনমেন্ট ২০১৭’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে। এ সময় সিপিডির অনারারি ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টটিতে দেখা গেছে, ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধতা হলো দুর্নীতি। গতবারের প্রতিবেদনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। ২০১৬ সালে দেশের অবকাঠামোগত ও প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের ফলেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সাত ধাপ এগিয়েছে বলে মনে করে সিপিডি।

প্রতি বছরের মতো মোট ১২টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক তৈরি করেছে ডব্লিউইএফ। এসব বিষয় নিয়ে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮৫ জন ব্যবসায়ীর মতামতের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে ৭ নম্বরের মধ্যে এবার ৩ দশমিক ৯ নম্বর নিয়ে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ৯৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ৩ দশমিক ৮ নম্বর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৬তম।

এদিকে র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভের ফলাফল উপস্থাপনকালে জরিপটি প্রসঙ্গে সিপিডি জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে জরিপে বেশকিছু ইতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে। দেখা গেছে, ২০১৬ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের উপলব্ধিতে উন্নতি হয়েছে। জরিপে উত্তরদাতাদের ৪২ শতাংশ মনে করে, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক উন্নয়ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থ পাচারের প্রবণতা রয়েছে বলে মনে করছে ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি।

তবে কর ব্যবস্থার জটিলতা নিরসনের ব্যাপারে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জরিপে পুঁজিবাজারে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রকৃতি নিয়ে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদারকি ও নজরদারির দক্ষতা নিয়ে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতার প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।

জরিপ প্রসঙ্গে সিপিডি আরো জানায়, ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি দুর্বল ছিল। জরিপের মাধ্যমে সিপিডি পুঁজিবাজারে দক্ষতা ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে, পুঁজিবাজার এখনো অবৈধ কার্যক্রম দ্বারা প্রভাবিত। এ বাজার সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থার ঘাটতি উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করে ২২ শতাংশ উত্তরদাতা। ১১ শতাংশ জানিয়েছে, আর্থিক বিবরণীর দুর্বলতা বাজারের প্রতি অনাস্থা বাড়ায়। অকার্যকর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে দুর্বলতা হিসেবে মনে করে ১১ শতাংশ উত্তরদাতা।

র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট জরিপ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) সেবা সুনিশ্চিত নয়— এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব জানিয়েছে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা। ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের গতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা। শক্তিশালী মুদ্রামান ব্যবসায় প্রতিকূল প্রভাব ফেলেছে, এমন মনোভাব জানিয়েছে ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা।

506 total views, 2 views today

Leave a Reply

সর্বশেষ সংবাদ