ছাত্রলীগের হামলা ও ভাংচুর ॥ সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলার গৌরনদীতে ছাত্রদলের আলোচনা সভায় সোমবার সন্ধ্যায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় একটি বসতঘর ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। হামলার ভিডিও ধারন করার সময় এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত সাংবাদিক মোল্লা ফারুক হাসানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীদের অর্তকিত হামলায় ছাত্র ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ছাত্র ও যুবদলের ৬১জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। হামলায় আহত হওয়ার পর পুলিশের অভিযানে আটককৃত গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মোল্লা মাহফুজ থানা হাজতে বসে সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার উত্তর পালরদীস্থ তার নিজ বাসভবনে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি আরও জানান, জন্মদিনের কেক কাটা শেষে আলোচনা সভা চলাকালীন সময় আকস্মিকভাবে সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি সুমন মাহমুদ ও এজিএস রেজভী জামান রিয়াজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের সভাস্থলে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা সভাস্থলে আগত নেতাকর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
মোল্লা মাহফুজ আরও জানান, হামলায় তিনিসহ যুব ও ছাত্রদলের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীরা আহত হলেও ঘটনার পর পরই গৌরনদী মডেল থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্র ও যুবদলের ৬১ নেতাকর্মীকে আটক করেছেন।
আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, জেলা বিএনপি নেতা কাজী সরোয়ার, গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মোল্লা মাহফুজ, সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস ছাত্রদল নেতা ফুয়াদ হোসেন এ্যানি, যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম শাহীন, ছাত্রদল নেতা জাফর, সবুজ, মাসুদ ও মিজানুর রহমান।
গৌরনদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেসরকারী টেলিভিশন মাই টিভির গৌরনদী উপজেলার ক্যামেরাপার্সন ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত আমাদের বরিশাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি মোল্লা ফারুক হাসান জানান, হামলা চলাকালীন সময় তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন। এসময় সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিয়ান ইসলাম রাতুল শরীফ তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। থানায় দায়িত্বরত এসআই মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোন তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা) এলাকায় ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহরা ও থানা পুলিশের গণগ্রেফতারের অভিযান চলছে।

185 total views, 3 views today

Leave a Reply

সর্বশেষ সংবাদ