বরিশালে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

টাইমস ডেস্ক // বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পালরদী মডেল স্কুল এ্যা- কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তপন কুমার রায়কে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত হলেন কলেজের একাদশ শ্রেনির ছাত্র ও পৌর ছাত্রলীগের সদস্য সাকির গোমস্তা (১৮)। মঙ্গলবার দুপুরে বহিরাগত যুবলীগ কর্মি ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় মারা যান। ছাত্রলীগ কর্মির হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নিহতের মা আলেয়া বেগম বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১২ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে আসামির বাড়ি ও একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে নিহতের স্বজনরা।

সরেজমিনে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদী পৌরসভার পালরদী এলাকায় পালরদী মডেল স্কুল এ্যা- কলেজ ক্যাম্পাসে স্থানীয় যুবলীগ কর্মি সোহেল গোমস্তা তার সহযোগীদের নিয়ে ক্যম্পাসে ঢুকে প্রায়ই বখাটেপনা ও স্কুল ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিল। কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তপন কুমার রায় গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোহেল গোমস্তা(২৯)কে ডেকে সাশিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বারন করে দেন। এ সময় সোহেল ও তার সহযোগীরা অধ্যক্ষ তপন কুমার রায়কে লাঞ্চিত করেন। শিক্ষককে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদ করেন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ও গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগ কর্মি সাকির গোমস্তা(১৮)। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অধ্যক্ষ তপন কুমার রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার লাঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছেলেটি হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সাকির বাংলা পরীক্ষা দিয়ে দুপুর পোনে একটায় কলেজ থেকে বের হয়ে ১টার দিকে কলেজ গেটের পূর্ব পাশে মাহাবুব হাওলাদারে চায়ের দোকানের সামনে পৌছলে অধ্যক্ষ লাঞ্চিত ঘটনার জের ধরে সাকির গোমস্তার উপর হামলা চালায় সোহেল গোমস্তা(২৯)র নেতৃত্বে তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সাকিরের মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সাকিরে অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেলে তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সন্থ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টায় মারা যান।

অভিযোগের ব্যপারে যুবলীগ কর্মি সোহেল গোমস্তাসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। অপরদিকে এজাহারভূক্ত আসামি সুমন হাওলাদারের মা সানু বেগম(৩৫) অভিযোগ করে বলেন, গতকাল বুধবার সকালে আরাফত হোসেন, রিফাত সহ ১৫/২০ যুবক মোগো দোকানে হামলাা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। একই অভিযোগ করে আসামি সোহেল মীরের মা রাশিদা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একদল যুবক তাদের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সাকিরের মা বাদি হয়ে সোহেল গোমস্তা, বাবা ইউসুফ গোমস্তাসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিল। ওই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেব রুপান্তরিত করা হবে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় সাকির হত্যার প্রতিবাদ হত্যাকারীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী নিহতের স্বজনসহ এলাবাসী অংশ নেন।

243 total views, 2 views today

সর্বশেষ সংবাদ