ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছে বরিশালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার ঘুষ দাবী

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজদার রহমানের বিরুদ্ধে মৎস্য প্রকল্পের উদ্যোক্তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বানারীপাড়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উজিরপুরের জল্লায় কৃষ্ণবালার বাড়ির পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজদার রহমান’র বিরুদ্ধে তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবীর অভিযোগ এনে মৎস্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ও বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে বানারীপাড়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম পাশর্^বর্তী উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নে কৃষ্ণবালার বাড়ির পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের বিপরীতে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পান। রবিবার তিনি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজদার রহমানের কাছে ওই প্রকল্পের বরাদ্দের প্রথম কিস্তির ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ছারপত্রের জন্য গেলে তিনি প্রকল্পের বরাদ্দ করাতে হলে তাকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হবে বলে জানান।ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বরাদ্দ বাতিল করে অর্থ ফেরত পাঠানো হবে বলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।এসময় তার সঙ্গে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরনও করেন।ফলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম মৎস্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ও বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)র কাছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার ঘুষ দাবী ও অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজদার রহমান চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী থেকে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত চলা অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে কম্বিং অপারেশনের জন্য সরকারী বরাদ্দের ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৬ লাাখ ১০ হাজার টাকা তিনি একা আত্মসাত করেন। মাত্র ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ১০টি উপজেলায় মৎস্য অফিসগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়।গত বুধবার কম্বিং অপারেশনের বরাদ্দের টাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া নিয়ে নিয়ে জেলা মৎস্য অফিসের প্রধান করনিক মেজবা উদ্দিনকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজদার রহমান তার অফিস কক্ষে পেপার ওয়েট মেরে আহত করেন। এসময় অফিসের কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন।পরে উপ-পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান এসে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজদার রহমানকে তালবদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাকে দিয়ে ক্ষমা প্রার্থণা করিয়ে কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন করেন।এছাড়াও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা মৎস্য অফিসের অপর ষ্টাফ ইউনুস আলীকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।গত বছরের ২০ নভেম্বর যোগদান করা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজদার রহমানের বিরুদ্ধে মাত্র চার মাসে স্বেচ্ছাচারিতা,দুর্ব্যবহার,অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজদার রহমান ঘুষ দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই প্রকল্প নীতিমালা বর্হিভূত ও ওয়ারিশ সম্পত্তি ওয়াকফ হওয়ায় বরাদ্দের ছারপত্র দেওয়া হচ্ছেনা।এ ব্যপারে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম দাবী করেন ঘুষ দাবীর ঘটনা আড়াল করতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ায় এ বরাদ্দ পেয়েছেন।

67 total views, 2 views today

সর্বশেষ সংবাদ